আমার এ ঘর ভাঙ্গিয়াছে যেবা, আমি বাধি তার ঘর, আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর। আমার এ ঘর ভাঙ্গিয়াছে যেবা, আমি বাধি তার ঘর, আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।

হযরত আলী (রা:)

কথা বল পার্থক্য-জ্ঞানসহ, প্রশ্ন-প্রতিবাদ কর প্রমাণসহ। কেননা মুখ তো পশু-প্রাণীরও থাকে; কিন্তু তারা জ্ঞান-বুদ্ধি-ভদ্রতা থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকে।

হযরত আলী (রা:)

জ্ঞানী ব্যক্তি আগে চিন্তা করে পরে কথা বলে, বোকা ব্যক্তি আগে কথা বলে পরে চিন্তা করে।

হযরত আলী (রা:)

সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান যিনি পরম করুণাময় আল্লাহর দয়ার ব্যাপারে আশা ও আত্মবিশ্বাস না হারানোর জন্য মানুষকে উপদেশ দেন।

হযরত আলী (রা:)

জ্ঞানের মত সম্পদ আর নেই, অজ্ঞতার মতন দারিদ্র আর নেই।

হযরত আলী (রা:)

যে ব্যক্তি নিজের হিসাব নিজে নেয় সে লাভবান হয়। সে নিজেকে ভুলে থাকে সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যে ভয় পায় সে নিরাপদ হতে পারে। যে উপদেশ গ্রহণ করে সে বিচক্ষণ হয়। আর যে বিচক্ষণ হয় সে বোধ লাভ করে। আর যে বোধশক্তি লাভ করে সে জ্ঞানের অধিকারী হয়।

হযরত আলী (রা:)

যে ব্যক্তি কোরআন বুঝতে পেরেছে তার হাতে সকল জ্ঞানের চাবি এসে গেছে।

হযরত আলী (রা:)

প্রস্থান (অর্থাৎ দুনিয়া থেকে চলে যাওয়া) অতি নিকটে। সুতরাং সে ব্যক্তিই জ্ঞানী যে মৃত্যুকালে নিয়ে যাওয়ার মতো পাথেয় সঞ্চয় ও প্রস্তুত করে রাখে।

হযরত আলী (রা:)

কারো সাথে বাক্যলাপ না হওয়া পর্যন্ত তাকে তুচ্ছ জ্ঞান করোনা।

হযরত আলী (রা:)

অল্প বিদ্যায় আমল বিনষ্ট হয়। শুদ্ধ জ্ঞানই আমলের পুর্ব শর্ত।

হযরত আলী (রা:)

জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা যত বাড়বে , বক্তব্য তত কমবে ।

হযরত আলী (রা:)

হীনতম জ্ঞান জিহ্বায় থাকে এবং উচ্চমানের জ্ঞান কর্মের মাঝে প্রকাশ পায় ।

হযরত আলী (রা:)

মানুষের জ্ঞানের একটি হিংসাত্মক কাজ হলো আত্মম্ভরিতা।

হযরত আলী (রা:)

বুদ্ধিমান লোক নিজে নত হয়ে বড় হয়, আর নির্বোধ ব্যক্তি নিজেকে বড় বলে অপদস্ত হয়।

হযরত আলী (রা:)

জ্ঞান নিয়ে অন্যান্য মনিষীদের উক্তিগুলো জেনে নিন।

হযরত আলী (রা:)

বুদ্ধিমানেরা কোনো কিছু প্রথমে অন্তর দিয়ে অনুভব করে, তারপর সে সম্বন্ধে মন্তব্য করে। আর নির্বোধেরা প্রথমেই মন্তব্য করে বসে এবং পরে চিন্তা করে।

হযরত আলী (রা:)

মানুষের চরিত্র সত্য ও সুন্দর হলে তার কথাবার্তাও নম্র ভদ্র হয় ।

হযরত আলী (রা:)

অসৎ লোক কাউকে সৎ মনে করে না, সকলকেই সে নিজের মতো ভাবে ।

হযরত আলী (রা:)

সব দুঃখের মূল এই দুনিয়ার প্রতি অত্যাধিক আকর্ষণ ।

হযরত আলী (রা:)

যে নিজের মর্যাদা বোঝে না অন্যেও তার মর্যাদা দেয় না!

হযরত আলী (রা:)

স্বাস্থ্যের চাইতে বড় সম্পদ এবং অল্পে তুষ্টির চাইতে বড় সুখ আর কিছু নেই।

হযরত আলী (রা:)

কৃপণতা সকল বদভ্যাসের সম্মিলিত রুপ। এটা এমনি এক লাগাম যা দ্বারা যে কোন অন্যায়ের দিকে টেনে নেওয়া চলে।

হযরত আলী (রা:)

অভ্যাসকে জয় করাই পরম বিজয় ।

হযরত আলী (রা:)

আত্মীয়ত্যাগী ধনী অপেক্ষা আত্মীয়বত্সল গরিব ভালো।

হযরত আলী (রা:)

আত্মতুষ্টি নিশ্চিতভাবে নির্বুদ্ধিতার লক্ষণ।

হযরত আলী (রা:)

নীচ লোকের প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে অশ্লীল বাক্য।

হযরত আলী (রা:)

বিপদে অস্থিরতা নিজেই একটি বড় বিপদ।

হযরত আলী (রা:)

সম্মুখে তারিফ করে দুষমন সে জন ।

হযরত আলী (রা:)

মানুষ উত্তম নিয়তের কারণে সওয়াব/পুরস্কারপ্রাপ্ত হয়, যা অনেকক্ষেত্রে ভালো আমলের পরও পাওয়া যায় না। কেননা নিয়তের ক্ষেত্রে লোক-দেখানো বা লৌকিকতার সুযোগ নেই।

হযরত আলী (রা:)

সৎমানুষের এটাও অন্যতম গুণ যে, তাদের ইচ্ছা করে মনে রাখতে হয় না; তাদের কথা এমনিতেই মনে পড়ে।

হযরত আলী (রা:)

শব্দ-কথা’মানুষের ইচ্ছাধীন দাস হয়ে থাকে; তবে তা বলার আগ পর্যন্ত। বলে ফেললে, মানুষ তার দাসে পরিণত হয়।

হযরত আলী (রা:)

হীনব্যক্তির সম্মান করা ও সম্মানীয় ব্যক্তির অপমান করা একই প্রকার দোষের।

হযরত আলী (রা:)

সততার মাধ্যমে একজন নিরীহ প্রকৃতির লোকও যে মর্যাদার অধিকারী হয়, বুদ্ধিমানেরা রকমারী কলাকৌশল প্রয়োগ করেও তার নিকটে পৌঁছতে পারে না।

হযরত আলী (রা:)

যে পৃথিবীকে বিশ্বাস করে, পৃথিবী তার সাথে ছলনা করে।

হযরত আলী (রা:)

বিশ্বাসহীন ধনী সব থেকে গরিব।

হযরত আলী (রা:)

প্রতিটি মানুষের মূল্য তার যোগ্যতায়।

হযরত আলী (রা:)

যে মানুষ আপন মর্যাদার সীমা বুঝে তার কোনো ধ্বংস নেই।

হযরত আলী (রা:)

মানুষ তার জিহ্বার নীচে লুক্কায়িত থাকে।

হযরত আলী (রা:)

যুগের (স্বভাব প্রকৃতির) সঙ্গে মানুষের সাদৃশ্য পিতৃ-সাদৃশ্যের চেয়ে অধিক।

হযরত আলী (রা:)

মানুষ যা জানে না তার প্রতি বিরূপ হয়ে থাকে।

হযরত আলী (রা:)

অভাব বিচক্ষণ ব্যক্তিকেও যুক্তির ক্ষেত্রে নির্বাক করে দেয়। অভাবী যেন নিজ দেশেই পরবাসী।

হযরত আলী (রা:)

মানুষ সব বুঝে বেঘোর, মৃত্যু আসা মাত্র জেগে উঠবে।

হযরত আলী (রা:)

দুনিয়া যখন কারো প্রতি প্রসন্ন হয় তখন অন্যের গুণাবলীও তাকে ধার দেয়, কিন্তু যখন অপ্রসন্ন হয় তখন তার নিজস্ব গুণাবলীও ছিনিয়ে নেয়।

হযরত আলী (রা:)

হৃদয়সমূহ একত্র করো এবং তা ধরে রাখতে হেকমতের আশ্রয় গ্রহণ করো । কেননা শরীরের ন্যায় হৃদয়ও ক্লান্তি ও একঘেয়েমী বোধ করে।

হযরত আলী (রা:)

সবচেয়ে সাহসী ও বীর্যবান ব্যক্তি হলো সেই যে স্বীয় কামনা বাসনার খেয়াল খুশির উপর বিজয় লাভ করতে সক্ষম।

হযরত আলী (রা:)

সব দুঃখের মূল এই দুনিয়ার প্রতি অত্যাধিক আকর্ষণ।

হযরত আলী (রা:)

অজ্ঞদেরকে মৃত্যুবরণ করার পূর্বেই মৃত অবস্থায় কাল যাপন করতে হয় এবং সমাধিস্থ হবার পূর্বেই তাদের শরীর কবরের আঁধারে সমাহিত; কেননা তাদের অন্তর মৃত, আর মৃতের স্থান কবর।

হযরত আলী (রা:)

অন্যান্য জ্ঞানী গুণীদের জীবনবোধ জেনে নিতে ফলো করুন নিম্নলিখিত লিংক।

হযরত আলী (রা:)

মহাকবি আল্লামা ইকবালের উক্তি । আলোচিত ও জনপ্রিয় বাণী সমাবেশ।

হযরত আলী (রা:)

যে কাউকে একাকী উপদেশ দেয়, সে তাকে সজ্জিত করে; আর যে কাউকে সবার সামনে উপদেশ দেয়, সে তাকে আরও বিগড়িয়ে ফেলে।

হযরত আলী (রা:)

মনে রেখো তোমার শত্রুর শত্রু তোমার বন্ধু, আর তোমার শত্রুর বন্ধু তোমার শত্রু ।

হযরত আলী (রা:)

যা তুমি নিজে করো না বা করতে পারো না, তা অন্যকে উপদেশ দিও না ।

হযরত আলী (রা:)

কার্পণ্য ত্যাগ করো নতুবা তোমার আপনজনরা তোমার জন্য লজ্জিত হবে এবং অপরে তোমাকে ঘৃণা করব।

হযরত আলী (রা:)

ধনসম্পদ হচ্ছে কলহের কারণ, দুর্যোগের মাধ্যমে কষ্টের উপলক্ষে এবং বিপদ আপদের বাহন ।

হযরত আলী (রা:)

মানুষের সাথে তাদের বুদ্ধি পরিমাণ কথা বলো।

হযরত আলী (রা:)

বুদ্ধিমান ও সত্যবাদী ব্যক্তি ছাড়া আর কারো সঙ্গ কামনা করো না।

হযরত আলী (রা:)

পুণ্য অর্জন অপেক্ষা পাপ বর্জন শ্রেষ্ঠতর ।

হযরত আলী (রা:)

যা সত্য নয় তা কখনো মুখে এনো না । তাহলে তোমার সত্য কথাকেও লোকে অসত্য বলে মনে কর।

হযরত আলী (রা:)

বড়দের সম্মান কর, ছোটরা তোমাকে সম্মান করবে।

হযরত আলী (রা:)

মন্দ লোক অন্যদের সম্পর্কে ভালো ধারণা করতে পারে না, সর্বোচ্চ সে তাদেরকেও নিজের মত মনে করে।

হযরত আলী (রা:)

তোমার যা ভাললাগে তাই জগৎকে দান কর, বিনিময়ে তুমিও অনেক ভালো জিনিস লাভ কর।

হযরত আলী (রা:)

অনুশোচনা খারাপ কাজকে বিলুপ্ত করে আর অহংকার ভালো কাজকে ধ্বংস করে।

হযরত আলী (রা:)

অনর্থক কামনা নিজেই একটি ধ্বংসাত্বক সঙ্গী, আর বদ অভ্যাস সৃষ্টি করে একটি ভয়াবহ শত্রু।

হযরত আলী (রা:)

গোপন কথা যতক্ষণ তোমার কাছে আছে সে তোমার বন্দী । কিন্তু কারো নিকট তা প্রকাশ করা মাত্রই তুমি তার বন্দী হয়ে গেলে।

হযরত আলী (রা:)

ছোট পাপকে ছোট বলিয়া অবহেলা করিও না, ছোটদের সমষ্টিই বড় হয়।

হযরত আলী (রা:)

তোমার যা ভাল লাগে তাই জগৎকে দান কর, বিনিময়ে তুমিও অনেক ভালো জিনিস লাভ করবে।

হযরত আলী (রা:)

তুমি পানির মত হতে চেষ্টা কর, যে কিনা নিজের চলার পথ নিজেই তৈরী করে নেয় ।পাথরের মত হয়োনা, যে নিজে অন্যের পথরোধ করে |

হযরত আলী (রা:)

নেককারদের সাহচর্য দ্বারা মানুষ শুধু মঙ্গলই পেয়ে থাকে। কেননা বাতাস যখন ফুলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তাতে নিজেই সুগন্ধিযুক্ত হয়ে যায়।

হযরত আলী (রা:)

কখনও কারও সামনে নিজের সততা-ভালো হওয়ার কথা বলতে যাবে না। কেননা তোমার প্রতি যার বিশ্বাস আছে, তার কাছে তেমনটির প্রয়োজনই নেই; আর তোমার প্রতি যার ভক্তি-বিশ্বাস নেই, সে তা মেনে নেবে না।

হযরত আলী (রা:)

জীবজন্তুর মাঝে থাকে প্রবৃত্তি-কামনা এবং ফেরেশতাদের মধ্যে থাকে বুদ্ধি-বিবেক; কিন্তু মানুষের মধ্যে থাকে উভয়টি। মানুষ যদি বিবেক-বুদ্ধিকে চেপে যায়, পশু হয়ে যায় আর যদি প্রবৃত্তি-কামনা-বাসনাকে চেপে যায়, ফেরেশতাসম হয়ে যায়।

হযরত আলী (রা:)

জীবনযাপনকে প্রয়োজনের মধ্যে সীমীত রাখো; শখ-বাসনার দিকে নিয়ে যাবে না। চাহিদা একজন ফকিরেরও পূর্ণ হয়ে যায়। আর শখ-বাসনা একজন রাজা-বাদশাহরও পূর্ণ হয় না।

হযরত আলী (রা:)

কোনো মানুষের ভালো বা গুণের কিছু জানলে, তা বল, প্রকাশ কর। কিন্তু কোনো ত্রুটি পেলে সেক্ষেত্রে তোমার নিজের গুণের পরীক্ষা বলে মনে করবে।

হযরত আলী (রা:)

সেসব মানুষের ওপর আস্থা-ভরসা রাখবে, যারা তোমার তিনটি বিষয় মূল্যায়ন করে। ক. তোমার হাসি-আনন্দের ক্ষেত্রে অব্যক্ত দয়া পোষণ করে, খ. তোমার ক্রোধের ক্ষেত্রে অব্যক্ত ভালোবাসা পোষণ করে, গ. তোমার মৌনতার ক্ষেত্রে গোপনমুখ হিসেবে কাজ করে।

হযরত আলী (রা:)

আত্মীয়ত্যাগী ধনী অপেক্ষা আত্মীয়বত্সল গরিব ভালো।

হযরত আলী (রা:)

অল্প দান করতে কখনো লজ্জিত হইও না,কারণ অভাবীকে ফিরিয়ে দেয়া তার থেকে বেশী লজ্জার।

হযরত আলী (রা:)

দ্রুত ক্ষমা করে দেয়া সম্মান বয়ে আনে আর দ্রুত প্রতিশোধ পরায়ণতা অসম্মান বয়ে আনে।

হযরত আলী (রা:)

হে, লেখক! তুমি যা লিখছ তার সবই একজন ফেরেশতা নজরদারী করছেন।তোমার লেখালেখিকে অর্থপূর্ণ করো কেননা অবশেষে একদিন সব লেখাই তোমার কাছে ফেরত আসবে এবং তুমি যা লিখেছ তার জন্য তোমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

হযরত আলী (রা:)

অতিরিক্ত সমালোচনা করবেন না। অতিরিক্ত সমালোচনা ঘৃণা এবং খারাপ চরিত্রের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

হযরত আলী (রা:)

কারো অধঃপতনে আনন্দ প্রকাশ করো না, কেননা ভবিষ্যত তোমার জন্য কী প্রস্তুত করে রেখেছে সে সম্পর্কে তোমার কোন জ্ঞানই নেই।

হযরত আলী (রা:)

রেগে যাবার সময়ের এক মূহুর্তের ধৈর্য রক্ষা করে পরবর্তী সময়ের হাজার মূহুর্তের অনুশোচনা থেকো।

হযরত আলী (রা:)

আপনার দ্বারা নেক কাজ সাধিত হলে আল্লাহ তা’আলার প্রশংসা করুন এবং যখন অসফল হবেন তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।

হযরত আলী (রা:)

লোকের যে সমস্ত দোষ ত্রুটির উপর আল্লাহ পর্দা দিয়ে রেখেছেন তা তুমি প্রকাশ করার চষ্টা করো না।

হযরত আলী (রা:)

আপনার দ্বারা নেক কাজ সাধিত হলে আল্লাহ তা’আলার প্রশংসা করুন এবং যখন অসফল হবেন তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।

হযরত আলী (রা:)

আল্লাহ্ যখন তোমাকে স্বাধীন বানিয়েছেন তখন তুমি অন্যের গোলাম হয়ো না।

হযরত আলী (রা:)

তিনটি আমল অত্যন্ত কঠিন___ প্রচন্ড রাগের সময় কাউকে ক্ষমা করা, নিদারুণ অভাব থাকা সত্ত্বেও মানুষকে দান করা, একান্ত নির্জনতায় নিজেকে পাপ থেকে বিরত রাখা।

হযরত আলী (রা:)

লোকে তোমার প্রশংসা করলে খুশি হইও না। লোকে তোমার নিন্দা করলেও দুঃখ পেও না। কারণ লোকের কথায় কয়লা কখনো সোনা হয় না।

হযরত আলী (রা:)

তুমি জান্নাত চেওনা বরং তুমি দুনিয়াতে এমন কাজ কর যেন জান্নাত তোমাকে চায়।

হযরত আলী (রা:)

স্বপ্ন আর আকাঙ্ক্ষার উপর ভরসা করে বসে থেকো না, কেননা এটা হলো মূর্খ মানুষের পুঁজি।

হযরত আলী (রা:)

(অন্তরে) যে যাই গোপন করে তা তার জিহ্বার ফাঁকে বের হয়ে পড়ে এবং মুখণ্ডলের অভিব্যক্তিতে ধরা পড়ে।

হযরত আলী (রা:)

তোমাদের কেউ যেন আপন প্রতিপালক ছাড়া অন্য কারো আশা না করে এবং তাঁর ‘শাস্তি’ ছাড়া অন্য কিছুকে ভয় না করে। তোমাদের কেউ যেন যা জানে না তা শিখতে এবং না জানা বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হলে ‘জানি না’ বলতে সংকোচ বোধ না করে।

হযরত আলী (রা:)

অভিজাত লোকের হামলা সম্পর্কে সতর্ক হও যখন সে ক্ষুধার্ত হয়। আর ইতর লোকের হামলা হতে সতর্ক হও যখন সে পূর্ণ উদর হয়।

হযরত আলী (রা:)

পাচটি জিনিস খুব খারাপ, আলেমের খারাপ কাজ ,শাসকের লালসাবৃত্তি, বৃদ্ধের জেনাকারিতা, ধনীর কৃপণতা, নারীর নির্লজ্জতা।

হযরত আলী (রা:)

সেই ব্যক্তির পক্ষেই সর্বাধিক সৎকর্ম করা সম্ভব,যে ক্রোধ নিয়ন্ত্রণে সক্ষম।

হযরত আলী (রা:)

কেউ স্বীকৃতি না দিলেও তুমি তোমার সদাচরণ অব্যাহত রাখবে।

হযরত আলী (রা:)

কখন বুঝবে একটি দেশ ও সমাজ নষ্ট হয়ে গেছে? যখন দেখবে দরিদ্ররা ধৈর্য্যহারা হয়ে গেছে , ধনীরা কৃপণ হয়ে গেছে , মূর্খরা মঞ্চে বসে আছে, জ্ঞানীরা পালিয়ে যাচ্ছে এবং শাসকরা মিথ্যা কথা বলছে।

হযরত আলী (রা:)

বন্ধুত্ব করার মত কোন যোগ্যলোক পাওয়া না গেলেও অযোগ্যদের সাথে বন্ধুত্ব করতে যেও না।

হযরত আলী (রা:)

শত্রুরা শত্রুতা করতে কৌশলে ব্যর্থ হলে তারপর বন্ধুত্বের সুরত ধরে।

হযরত আলী (রা:)

আগুন্তক সে যার কোন বন্ধু নেই।

হযরত আলী (রা:)

ভালোবাসা সবাইকে নিবেদন করো; তবে তাকে সর্বাধিক ভালোবাস, যার অন্তরে তোমার জন্য তোমার চেয়েও অধিক ভালোবাসা বিদ্যমান।

হযরত আলী (রা:)

রাজ্যের পতন হয় দেশ হতে সুবিচার উঠে গেলে, কারণ সুবিচারে রাজ্য স্থায়ী হয়। সুবিচারকের কোন বন্ধুর দরকার হয় না।

হযরত আলী (রা:)

বন্ধু ও বন্ধুত্ব নিয়ে অন্যান্য জ্ঞানী, গুণীদের উক্তিগুলো জেনে নিন।

হযরত আলী (রা:)

মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে, প্রেম-ভালোবাসার জন্য; আর বস্তু সৃষ্টি করা হয়েছে ব্যবহারের জন্য। সমস্যার জন্ম নেয়, যখন বস্তুকে ভালোবাসা হয় এবং মানুষকে ব্যবহার করা হয়।

হযরত আলী (রা:)

দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা যত বেশি হবে, আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ততোটাই কম হবে।

হযরত আলী (রা:)

অযাচিত দানই দান, চাহিলে অনেক সময় চক্ষুলজ্জায় লোকে দান করে, কিন্তু তা দান নহে।

হযরত আলী (রা:)

ভদ্রতা উন্নত চরিত্রের লক্ষণ, আর শিষ্টতা উৎকৃষ্ট ইবাদতের লক্ষণ।

হযরত আলী (রা:)

যৌবনের অপচয়কৃত সময়ের ক্ষতি অবশ্যই পূরন করতে হবে, যদি তুমি সন্তোষজনক সমাপ্তি অনুসদ্ধান করো ।

হযরত আলী (রা:)

ত্বরিত ক্ষমা-প্রদর্শন ভদ্রতার নিদর্শন। আর ত্বরিত প্রতিশোধ গ্রহণ হীনতার পরিচায়ক।

হযরত আলী (রা:)

দ্রুত ক্ষমা করে দেয়া সম্মান বয়ে আনে আর দ্রুত প্রতিশোধ পরায়ণতা অসম্মান বয়ে আনে ।

হযরত আলী (রা:)

দুনিয়াতে সব চেয়ে কঠিন কাজহচ্ছে নিজেকে সংশোধন করা আর সব চেয়ে সহজ কাজ হচ্ছে অন্যের সমালোচনা করা।

হযরত আলী (রা:)

নিজের মহানুভবতার কথা গোপন রাখো, আর তোমার প্রতি অন্যের মহানুভবতার কথা প্রচার করো।

হযরত আলী (রা:)

দুনিয়া ও আখেরাত দুই সতীনের ন্যায়। স্বামী যেমন একজনকে খুশি করতে চাইলে অন্যজন ক্ষিপ্ত হয়। তেমনি কেউ দুনিয়ার জীবনকে সুখময় করতে চাইলে আখেরাতের ক্ষতি এবং আখেরাতকে নির্বিঘ্ন করতে চাইলে দুনিয়ার জীবনের ক্ষতি স্বীকার করা ছাড়া গত্যন্তর নেই।

হযরত আলী (রা:)

ভয় কর আল্লাহ (পাক) কে তাহলে তোমাকে আর কাউকে ভয় করতে হবে না।

হযরত আলী (রা:)

আল্লাহর (পাক) কথা হ্রদয়ের জন্য ওষুধ।

হযরত আলী (রা:)

ইসলামের যথার্থ ফেকাহবিদ সে যে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করে না, আল্লাহর দয়ার প্রতি হতাশ করে না এবং আল্লাহর শাস্তি থেকে নিরাপদ বলে মনে করিয়ে দেয় না ।

হযরত আলী (রা:)

অক্ষমতা একটি বিপদ, ধৈর্যের অর্থ সাহসিকতা, ভোগ বিলাসিতায় নির্মোহতা অমূল্য সম্পদ এবং ধর্মানুরাগ জান্নাত লাভের মাধ্যম।

হযরত আলী (রা:)

প্রকৃত দ্বীনদারী পার্থিব স্বার্থ ত্যাগের মাধ্যমেই সম্ভব।

হযরত আলী (রা:)

সৃষ্টিকর্তা ও ধর্ম নিয়ে অন্যান্য মনীষীদের উক্তি জেনে নিন।

হযরত আলী (রা:)

যে নিজে সতর্কতা অবলম্বন করে না, দেহরক্ষী তাকে বাঁচাতে পারে না।

হযরত আলী (রা:)

হীনব্যক্তির সম্মান করা ও সম্মানীয় ব্যক্তির অপমান করা একই প্রকার দোষের।

হযরত আলী (রা:)

ধনসম্পদ মাটিতুল্য; আর মাটি সংরক্ষণের যথাযোগ্য স্থান হচ্ছে পদতলে। তা যদি মাথার ওপর রাখা হয়, সেটা কবরের নামান্তর হয়। আর কবর তো জীবিত মানুষের জন্য নয়।

হযরত আলী (রা:)

অসৎ লোকের ধন -দৌলত পৃথীবিতে সৃষ্ট জীবের বিপদ -আপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

হযরত আলী (রা:)

বুদ্ধিমানেরা বিনয়ের দ্বারা সম্মান অর্জন করে,আর বোকারা ঔদ্ধত্যের দ্বারা অপদস্ত হয়।

হযরত আলী (রা:)

কখনো কখনো একটি মাত্র শব্দ বিরাট বঞ্চনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

হযরত আলী (রা:)

শিষ্টাচার হলো চির-নতুন পোশাক এবং চিন্তা হলো স্বচ্ছ আয়না।

হযরত আলী (রা:)

সৎ কাজ অল্প বলে চিন্তা করো না, বরং অল্পটুকুই কবুল হওয়ার চিন্তা কর।

হযরত আলী (রা:)

সময় ও সম্পদ এমন দুইটি জিনিস, যা মানুষের ইচ্ছাধীন নয়। সময় মানুষকে বাধ্য করে, আর সম্পদ অহংকারী করে তোলে।

হযরত আলী (রা:)

মূর্খলোক সম্পদের জন্য অন্তরের শান্তি বিসর্জন দেয়; আর বুদ্ধিমান ব্যক্তি মনের শান্তির জন্য সম্পদ লুটিয়ে দেয়।

হযরত আলী (রা:)

ধন সম্পদের অহংকার থেকে আল্লাহর পানাহ চাও।এটা এমন একরোগ, যা মানুষকে ধ্বংসের শেষ পর্যায়ে পৌছিয়ে দেয়।

হযরত আলী (রা:)

পাপিষ্ট ব্যক্তি কখনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারেনা। পাপ নিয়ে হযরত আলী (রাঃ) এর উক্তির মাধ্যমে সে কথাই প্রকাশিত হয়েছে।

হযরত আলী (রা:)

পাপ লুকানোর চেষ্টা করে কোনোদিন সফলকাম হতে পারে না। পাপের কথা স্বীকার করে যদি কেউ তা ত্যাগ করার চেষ্টা করে তবে তার পক্ষে সফলতা লাভ করা স্বাভাবিক।

হযরত আলী (রা:)

যেসব পাপকাজ তোমরা গোপনে করে থাকো সেগুলোকে ভয় করো, কেননা সেসব পাপের সাক্ষী বিচারক স্বয়ং নিজেই।

হযরত আলী (রা:)

হে আমার সন্তান! আল্লাহকে এমনভাবে ভয় করো যে সমগ্র মানবজাতির ভালো কাজের সমতূল্য সওয়াব নিয়েও যদি তুমি আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করো তবু তিনি তা কবুল করবেন না; এবং আল্লাহর ব্যাপারে এমন আশাবাদী হও যে সকল মানুষের করা পাপকাজের সমপরিমাণ পাপ নিয়েও যদি তুমি আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করো তবু তিনি তোমায় ক্ষমা করে দিবেন।” হযরত আলী (রাঃ) তাঁর ছেলের উদ্দেশ্যে এই কথাটি ব্যক্ত করেন ।

হযরত আলী (রা:)

কল্যাণপ্রাপ্ত তো সেই ব্যক্তি যার নিজের পাপসমূহ তাকে অন্যদের পাপের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ থেকে বিরত রাখে।

হযরত আলী (রা:)

হযরত আলী (রা:)

খোদার শপথ! যদি ষড়যন্ত্র অপছন্দনীয় ব্যাপার না হতো, তাহলে আমি হতাম বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ চতুর লোক৷ কিন্তু প্রত্যেক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করাই পাপ৷ আর প্রতিটি পাপই হলো অকৃতজ্ঞতা৷ আর প্রতিটি হঠকারিতা বা চাতুর্য এমন এক পতাকার মতো যেই পতাকার মাধ্যমে কেয়ামতে তা চিনতে পারা যাবে৷ খোদার শপথ! আমি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নতজানু হবো না, কিংবা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও অক্ষম হবো না।

হযরত আলী (রা:)

ছোট পাপকে ছোট বলিয়া অবহেলা করিও না, ছোটদের সমষ্টিই বড় হয়।

হযরত আলী (রা:)

একান্ত নির্জনতায় নিজেকে পাপ থেকে বিরত রাখো।

হযরত আলী (রা:)

পাপের কাজ করে লজ্জিত হলে পাপ কমে যায়, আর পুণ্য কাজ করে গর্ববোধ করলে পুণ্য বরবাদ হয়ে যায়।

হযরত আলী (রা:)

নফস হলো প্রবৃত্তির পূজারী। সহজগামী আমোদ-প্রমোদের অভিলাসী, কু-প্ররোচনায় অভ্যস্ত, পাপাচারে আসক্ত, আরাম প্রিয় ও কর্মবিমুখ। যদি তাকে বাধ্য করো তাহলে সে দুর্বল হয়ে পড়বে। আর যদি তাকে ছেড়ে দাও তাহলে (তুমি) ধ্বংস হয়ে যাবে।

হযরত আলী (রা:)

যে আলেম ব্যক্তির উপর জাহেলরা কতৃত্ব করে। যে ভদ্রব্যক্তি কোন ইতর লোকের অধীন হয়ে পড়ে। ঐ সৎব্যক্তি যার মাথার উপর পাপিষ্ঠ চেপে বসে।

হযরত আলী (রা:)

সর্বাপেক্ষা আহাম্মক ঐ ব্যক্তি যে অন্যের বদঅভ্যাসের প্রতি ঘৃণা পোষণ করে, এবং লোক চক্ষুর আড়ালে নিজেই সেই সব বদঅভ্যাসে জড়িত থাকে।

হযরত আলী (রা:)

অত্যাচারীর বিরুদ্ধে অত্যাচারিতের অন্তরে যে বিদ্বেষাগ্নির জন্ম হয়, তা অত্যাচারীকে ভস্ম করেই ক্ষান্ত হয় না, সে আগুনের শিখায় অনেক কিছুই দগ্ধীভূত হয়।

হযরত আলী (রা:)

অন্যায় সূচনাকারী যালেম আগামী দিন (অর্থাৎ কিয়ামতের দিন) স্বীয় হাত কামড়ে খাবে।

হযরত আলী (রা:)